দেশ সকাল ডেস্ক:
চট্টগ্রামের সন্তান মুখতার আলমের হাতের লেখায় সাজে কাবার গিলাফ
পবিত্র কাবা শরিফের কালো গিলাফে সোনালি ও রুপালি সুতোয় খচিত কোরআনের আয়াত ও নান্দনিক আরবি ক্যালিগ্রাফি মুসলিম বিশ্বের কাছে সৌন্দর্য, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। সেই মহিমান্বিত শিল্পকর্মের পেছনে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ক্যালিগ্রাফার—মুখতার আলম শিকদার। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে শুরু হওয়া তার জীবনযাত্রা আজ পৌঁছে গেছে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনার অলংকরণের দায়িত্বে।
১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন মুখতার আলম। তার বাবা মফিজুর রহমান বিন ইসমাঈল শিকদার সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাবার কর্মসূত্রে মাত্র চার বছর বয়সেই পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। সেখানেই বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা মুখতার আলম পরবর্তীতে মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যালিগ্রাফিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন।

কাবার গিলাফ বা ‘কিসওয়া’র সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয় ১৪২২ হিজরিতে। জেদ্দার খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মাদ সালেম বাজনাইদ তার শিল্প প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন। পরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০২ সালে কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর হোলি কাবা কিসওয়ায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন তিনি।
বর্তমান কিসওয়ার নকশা বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার শাইখ আবদুর রহিম আমিন বুখারির তৈরি ‘সুলুস’ লিপির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও মুখতার আলম আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন কৌশল সংযোজনের মাধ্যমে ক্যালিগ্রাফি শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত।