• বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ভারুয়াখালীকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ভারুয়াখালী ইউনিয়নকে প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে মতবিনিময় সভা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্তি: উপেক্ষিত ভারুয়াখালী ৫৪ বছরেও শেষ হয়নি নাকশালা থেকে কালিদাসের রাস্তার নির্মাণ কাজ কবি ঝিনুক জোবাইদার কাব্যগ্রন্হ ‘কিছু তার আমি হই কিছু তার আমি নই’ অধরা যে অর্ধেক আরাধনার আঁধার -ইবনে আলতাফ প্রার্থনায় তুমি: হৃদয় রাজ শরাবনতহুরা প্রসব প্রহরের অপেক্ষায়;তবু প্রজাপতি বোধে পড়ুক ফুল চন্দন। পরীমনির সঙ্গে সম্পর্ক: চাকরি হারালেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েন চট্টগ্রামের সন্তান মুখতার আলম সিকদারের হাতের লেখায় সাজে কাবার গিলাফ

কবি ঝিনুক জোবাইদার কাব্যগ্রন্হ ‘কিছু তার আমি হই কিছু তার আমি নই’ অধরা যে অর্ধেক আরাধনার আঁধার -ইবনে আলতাফ

প্রতিবেদক / ৬১ বার
আপডেট : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

কবি ঝিনুক জোবাইদার কবিতার মূল বিষয়বস্তু নিসর্গ, প্রেম,প্রকৃতি ও স্বদেশ চিন্তা ।
প্রকৃতির স্বাভাবিক চিত্রকে তৃতীয় চোখ দিয়ে অবলোকন করে কল্পনার তুলিতে আঁকেন নিসর্গ পট।যা রূপ নেয় বহু বর্ণিল চিত্রময় ল্যান্ডস্ক্যাপে।
প্রকৃতিকে এতো গভীরভাবে তিনি আত্মস্থ করেন যার দরুন পাঠক হারিয়ে যায় নিসর্গের অবগাহনে।
তার কল্পনা শক্তি যেমন অনন্ত গভীর তেমনি শিল্পের সুষমায় সুশোভিত। যেমন-

“যতই গহীনে যাই অরণ্য গভীর হয়ে ওঠে 
ছায়া ছায়া আলোছায়ায় বৃক্ষরা শব্দবতি হয়, ”
(ছায়া শরীর,কিছু তার আমি হই কিছু তার আমি নই)

যাদের বিনিময়ে মুক্ত স্বদেশ, মুক্ত নিশ্বাস নেওয়া।  প্রতিটি দণ্ডে কবি খোঁজে পান তাদের বাংলার প্রকৃতির প্রতিটি পরতে পরতে।শহীদদের কবি খোঁজে পান পতাকায়,বিহঙ্গের ডানায়,জারি সারি ভাটিয়ালি গানে,শিমুল ও কৃষ্ণচূড়ায়।কবি শহীদদের কিভাবে চেনেন? তা দেখা যাক-
‘রক্ত মিশে আছো পতাকায়,তোমাদের প্রতিদিন উড়তে  দেখি,/তোমরা অবিকল পাখি হয়ে উড়ো আমার আকাশে।”

কবি দেশমাতৃকার জন্য শহীদ হওয়া মহাত্মাদের, পাখির উপমায় বেঁধে কৃতজ্ঞতার সূতোয় আবদ্ধ রাখেন প্রতি প্রহর।
কবি সবুজ শ্যামল সুজলা সুফলা প্রান্তরের অনন্ত সুন্দর অনুভব করতে পারেন যাঁদের কারনে, তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেন-

‘ ভালবাসার বীজ বপন করেছিলে
তাইতো এতো সবুজ আমার আঙ্গিনা,
এতো শ্যামল আমার প্রান্তর।
জারি সারি ভাটিয়ালি 
আর জাতীয় সঙ্গীতে দেখো কী মসৃণ মিশে আছো।
অবিভক্ত প্রেম ছড়িয়ে দিয়েছিলে,
বসন্ত বাতাস খোঁজে তোমাদের নাম শিমুলে,কৃষ্ণচূড়ায়।’
(আমি চিনতে পারি তোমাদের প্রতিনিয়ত,কিছু তার আমি হই কিছু তার আমি নই)

প্রকৃতির বিচিত্র ক্যানভাসে পরিভ্রমণ করে কবি নিসর্গের চিত্রকল্প আঁকেন ধ্যানী মাছরাঙা হয়ে-
‘হেমন্ত শুয়ে থাকে 
বিকেলের রোদে’
ধানের শীষে,পুকুরের জলে আয়েসে।
(কুয়াশায় মাখামাখি,কিছু তার আমি হই কিছু তার আমি নই) 

হেমন্তের কারণে রোদ অভ্যাস বদলায়না আসলে, বরং রোদে হেমন্ত গা ভাসিয়ে হেমন্তের আগমন  জানান দেয়। কী গভীর কল্পনা শক্তি ও প্রকৃতি ধ্যানী হলে এমন বোধশক্তি সম্পন্ন বাক্যের উৎপত্তি হয়!

‘অতটুকু কি যেতে পারে বোধ!যতটুকু হ্নদয়?
কতটুকু তুমি বলো যেতে চাও,পথ দেবেনা তোমায় পথের ঠিকানা।”
হ্নদয়ের অনুবাদ পূঙ্খানুপূঙ্খভাবে করতে না পারলে আজন্ম হাঁটা পথিক কখনো পথের ঠিকানা পাবেনা।
এ যেন রবীন্দ্র চিন্তার কথা মনে করিয়ে দেয়-

“প্রথম দিনের সূর্য প্রশ্ন করেছিল  
সত্তার নূতন আবির্ভাবে — কে তুমি?  
মেলে নি উত্তর।  
বৎসর বৎসর চলে গেল।  
দিবসের শেষ সূর্য শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল  
পশ্চিমসাগরতীরে নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় — কে তুমি?  
পেল না উত্তর।”
(প্রশ্ন,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

কবি ঝিনুক জোবাইদা মরমী দর্শনেও পাঠককে
ডুবিয়ে রাখতে তৎপর 

‘তুমি হারাও পথ
আমিও হারায় পথ।
হ্নদয়ের অসীমে আমিও কিবা তুমি,
না পাই পথ, না পাই ঠিকানা। 
চিরকাল চেনা রাস্তায় হেঁটে গেল অচিন পথিক
পথিকেরও পথ জানা নেই।
(জানা নেই,কিছু তার আমি হই কিছু তার আমি নই) 

কবি ঝিনুক জোবাইদা আশার ফেরিওয়ালা। হতাশার মাদুরে তিনি শুয়েন না।স্বদেশ প্রেমে উজ্জীবিত তিনি ঘুরে দাঁড়াতে চান বুক ভরা খোয়াব নিয়ে।নিশি যতো দীর্ঘ হোক ভোর আসবেই। নিজ মাতৃভূমির প্রতি হতাশ হয়ে ওপার মুলুকে গিয়ে ভারবহনকারী পাওয়া যাবেনা। চাকচিক্যের ফাঁদে পড়ে স্বদেশ ছেড়ে যেই মুলুকেই যান না কেন একদিন মাইকেল মধুসূদনের ন্যায় মাতৃভূমির জন্য ঢেকুর তোলেই রোদনভরা চোখে বলতে হবে-

“বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ দলে
কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মেটে কার জলে
দুগ্ধস্রোতরূপি তুমি মাতৃভূমি স্তনে।
আর কি হে হবে দেখা যত দিন যাবে
প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে
বারি রূপ কর তুমি এ মিনতি গাবে
বঙ্গজ জনের কানে সখে-সখারিতে।
নাম তার এ প্রবাসে মজি প্রেমভাবে
লইছে যে নাম তব বঙ্গের সঙ্গীতে।”
কপোতাক্ষ নদ)

তাই কবি সবাইকে নষ্ট শহরে থেকেই প্রভাতের আলো হয়ে ঝরতে,বৃষ্টি হয়ে জঞ্জাল ধুয়ে দিতে,মেঘ হয়ে ছায়া দিতে,নারীকে মমতার হাত ছুঁয়ে দিতে,শিশুদের মত নিঃস্বার্থ ও পুষ্পকোমল হতে সর্বোপরি নিজেকে যিশু হয়ে ত্রাতা হতে আকুতি জানিয়েছেন –

‘বরং এখানেই থাকো,
এই নষ্ট শহরে,
প্রভাতেরে বলো আলো দিতে।
বৃষ্টিরে বলো ধুয়ে দিতে জঞ্জাল, মেঘেরে আলো ছায়া দিতে,/
———————

আমাকে বলো যিশু হতে
আমি যেন প্রতিদন যিশু হয়ে উঠি
আমি যেন শিশু হয়ে উঠি।
এতোসব পশুর মাজারে,
পশুর বাজারে আমি যেন ঘৃণার বদলে ভালবাসা ফেরি করি।
(নষ্ট শহর,আমি তার কিছু হই আমি তার কিছু নই)

কবি মানুষকে যিশুর ন্যায় ত্রাতার ভূমিকায় না পেয়ে কেবল মানুষনাম্নী  ছদ্মবেশ দেখে বিস্ময়ে বিমুঢ় হয়ে যান-

‘আমি সেই ফেরিওয়ালা 
ক্রেতাহীন শহরে বিস্ময় নিয়ে ঘুরি,এ গলি ও গলি।
মানুষ দেখি,যিশু দেখিনা।
শিশু দেখিনা।
হতাশার ঝুড়ি নিয়ে আবারও বিকেল কাঁধে নিয়ে হাঁটি। 
রঙধনু চিঠি পড়েনা।
(মানুষ দেখি যিশু দেখিনা,)

সুন্দরের আজন্ম শত্রু ষড়রিপু ।মানুষ রিপু আক্রান্ত  হয়ে ভুলে যায় জবাবদিহিতা।কবির সতর্কবার্তা-
‘আমার কাঁধের খুব কাছে বসে আছে যে 
তার কাছে গ্রেপ্তার হয়ে আছি জন্মেই, 
টাউন জামিনে চলি।
কোনো দিন রশিতে পড়বে টান 
দিতে হবে ধরা
পালাবো কোথায়?
কোথায় সে উপত্যকা?
(অভিশপ্ত, কিছু তার আমি হই কিছু তার আমি নই) 

“মানুষের সেই শেষ সাকিন কবির ভাষায় –

সাড়ে তিন হাত ফ্ল্যাট বাড়ি হাঁ করে আছে নিজস্ব ঠিকানায়”
তবুও মানুষের ভয় নেই হা হুতাশ নেই।পুষ্পকে পদদলিত করে,শিল্পকে হত্যা করে,জোছনাকে কালিমা দিয়ে মানুষের দিনলিপি যেন-

‘তবুও আমি রক্ত গিলি
তবুও আমি মাংস খুবলে খাই।
তবুও আমিও নখর চুষে হিংস্রতা ছড়াই
কোন আকালে হিংস্র শকুন হয়ে উঠি।”
(অভিশপ্ত, আমি তার কিছু হই আমি তার কিছু নই)

জমজম কূপের ন্যায় সুপেয় পানি মান্না সাল ওয়ায় ভরা সবুজ গ্রহ থাকা সত্বেও মানুষের আকাল তবুও পুঁজি ও মুনাফা। 

সংক্ষেপিত
প্রকাশিতব্য গ্রন্হ শরাবনতহুরা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও