• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন

ফাঁদ পেতে প্রবাসীদের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে‘চ্যামেট’প্রতারক চক্র

প্রতিবেদক / ৬৪ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

নিজস্বপ্রতিবেদক: মোবাইল ব্যাংকিং(বিকাশ,নগদ, রকেট)ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার জালে ফেলে নিঃস্ব করার পর,এবার নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে একটি সংঘবদ্ধ হ্যাকার ও প্রতারক চক্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে চক্রের এক নারী সদস্য এখন‘চ্যামেট’ (Chamet)নামক একটি লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপস ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই চতুর প্রতারণার প্রধান শিকার হচ্ছেন।অনুসন্ধানে জানা
গেছে,কথিত এই নারী প্রতারক এর আগে দেশের বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে হ্যাকিং চক্রের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করত। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায় এবং বর্তমানে অজ্ঞাত স্থান থেকে অনলাইনে তার প্রতারণা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে।
​নতুন ফাঁদ ‘চ্যামেট অ্যাপ’:

বর্তমানে এই নারী ‘চ্যামেট’অ্যাপসে ডায়মন্ড বিক্রির বড় ডিলার বা ‘ডায়মন্ড সেরা’হিসেবে ছদ্মনাম ব্যবহার করে নিয়মিত লাইভ স্ট্রিমিংয়ে আসে। লাইভে যুক্ত হওয়া ব্যবহারকারী,বিশেষ করে সহজ-সরল প্রবাসীদের কম মূল্যে ডায়মন্ড রিচার্জ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায় সে।
​প্রতারণার কৌশল:
ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়,বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য শুরুতে ১ থেকে ২ হাজার টাকার ডায়মন্ডের অর্ডার নিয়ে তা সাথে সাথেই অ্যাকাউন্টে রিচার্জ করে দেয় এই নারী। এতে গ্রাহকদের মনে তার প্রতি আস্থা তৈরি হয়। এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে যখন কোনো প্রবাসী বা ব্যবহারকারী বড় অঙ্কের (১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি) ডায়মন্ড কেনার জন্য তার দেওয়া নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠায়, তখনই আসল রূপ ধারণ করে এই প্রতারক। টাকা পাওয়ার সাথে সাথেই সে ওই গ্রাহকের আইডি এবং যোগাযোগ মাধ্যম ব্লক করে দেয়।অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই চক্রটি বর্তমানে অর্থ লেনদেনের জন্য মূলত ০১৬০৫৬৯৯২৮৯ এই বিকাশ নম্বরটি ব্যবহার করছে। এই নম্বরে টাকা নেওয়ার পর মুহূর্তেই তা সরিয়ে ফেলা হয় এবং ভুক্তভোগীদের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।​এই অভিনব প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ইতোমধ্যে অনেক প্রবাসী তাদের কষ্টার্জিত অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন।লোকলজ্জা এবং প্রবাসে থাকার কারণে অনেকেই আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছেন না,যার সুযোগ নিচ্ছে এই চক্র।
​এই বিষয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যামেটের মতো অননুমোদিত লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপগুলোতে এ ধরনের আর্থিক লেনদেন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। না চিনে বা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা ছাড়া ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একই সাথে এই হ্যাকার ও প্রতারক চক্রটিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিটের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও